প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন চমক। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো একের পর এক ডিভাইস নিয়ে হাজির হচ্ছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি বাজারে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন জায়ান্ট অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন এবং স্যামসাংয়ের নতুন বাজেট-বান্ধব ডিভাইস। এই দুই আলোচিত ফোন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
১. অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’
দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনল মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল। ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে: ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি দেখতে একটি পাসপোর্টের মতো। খোলার পর চোখের সামনে ভেসে ওঠে ৭.৬ ইঞ্চির বড় একটি পর্দা, যেখানে একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো যায়। অন্যদিকে বাইরের দিকে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর পর্দা। এর কাঠামো গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি এবং সুরক্ষার জন্য রয়েছে ‘সিরামিক শিল্ড-২’।
পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি: ফোনটি পরিচালনা করবে নতুন ‘এ-২০ প্রো’ চিপ এবং সঙ্গে থাকছে ১২ গিগাবাইট র্যাম ও অ্যাপলের নিজস্ব ‘সি-২ মডেম’। এতে দুই পাশে দুটি ব্যাটারি রয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। দ্রুত চার্জিংয়ে প্রায় ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব।
ক্যামেরা: ফটোগ্রাফির জন্য এতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ক্যামেরা ও ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। এ ছাড়াও সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য ভেতরের পর্দায় রয়েছে ‘সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা’।
দাম ও লভ্যতা: আইফোন ডুওর প্রারম্ভিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৯ টাকা। ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
২. স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১৮ ৪জি (Samsung Galaxy A18 4G)
অ্যাপলের ফ্লাগশিপ ডিভাইসের পাশাপাশি বাজেট ব্যবহারকারীদের জন্য স্যামসাং নিয়ে আসছে তাদের নতুন সাশ্রয়ী ফোন গ্যালাক্সি এ১৮ ৪জি।
ডিসপ্লে ও প্রসেসর: লিক অনুযায়ী ফোনটিতে ৬.৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি+ সুপার অ্যামোলেড ইনফিনিটি-ইউ ডিসপ্লে থাকতে পারে, যা ৯০Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করবে। পারফরম্যান্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হতে পারে মিডিয়াটেক হেলিও জি৯৯ (MediaTek Helio G99) প্রসেসর।
ক্যামেরা: ফোনটিতে ট্রিপল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর, ৫ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো সেন্সর। সেলফির জন্য রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
ব্যাটারি ও সফটওয়্যার: পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য এতে ৫০০০mAh ব্যাটারি এবং ২৫W ফাস্ট চার্জিং ফিচার থাকতে পারে। ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ভিত্তিক ওয়ান ইউআই ৯.০ (One UI 9.0) সহ লঞ্চ হতে পারে এবং এতে দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে।
দাম: ফোনটির গ্লোবাল দাম প্রায় ২৯৯ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩২ হাজার টাকার কাছাকাছি), তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এর দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।প্রযুক্তির এই দুই ভিন্ন ধারার স্মার্টফোন বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়!
