জাতীয়

জাতীয় :3

রাজনীতি

রাজনীতি :3

রাজধানী

রাজধানী :3

সারাবাংলা

সারাবাংলা :6

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক :3

অপরাধ

অপরাধ :3

প্রবাস

প্রবাস :3

সাবেক স্ত্রী মুক্তার থাপ্পড় কেন হজম করলেন আলম হাসান? আরনিয়াকে লাবিবে কাছ থেকে এনে একি সিদ্ধান্ত

মোঃ সোহাগ বকাউল প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আলম হাসানের পঞ্চম বিয়ে, আরনিয়াকে ঘিরে সাবেক স্বামী-স্ত্রীর টানাপোড়েন; ভাইরাল থাপ্পড়ের ভিডিও

একাধিক বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত আলম হাসানকে ঘিরে এবার নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে তার স্ত্রী আরনিয়াকে কেন্দ্র করে। কুষ্টিয়ার মেয়ে আরনিয়াকে আলম হাসান পঞ্চম বিয়ে করেছেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে আরনিয়ার জন্য আলম হাসান তৃতীয় স্বামী।

আলম হাসান ও আরনিয়ার দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা ঘটনার পর একপর্যায়ে আরনিয়া বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর তিনি আলম হাসানের সাবেক চতুর্থ স্ত্রী মুক্তার কাছে যান। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন আরনিয়ার সাবেক স্বামী লাবিব। এরপর ঘটনাপ্রবাহ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে এসব ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে। এর মধ্যে আলম হাসান, আরনিয়া, মুক্তা ও লাবিবকে ঘিরে একটি হাতাহাতি ও থাপ্পড়ের ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঝগড়ার পর আলম হাসানের বাড়ি ছাড়েন আরনিয়া: জানা যায়, আলম হাসানের সঙ্গে ঝগড়ার পর তার স্ত্রী আরনিয়া বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর তিনি প্রথমে আলম হাসানের সাবেক চতুর্থ স্ত্রী মুক্তার কাছে যান।

মুক্তার বাসায় যাওয়ার পর সেখানে আগে থেকেই থাকা আরনিয়ার সাবেক স্বামী লাবিবের সঙ্গে তার দেখা হয়। এরপর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। আরনিয়া আলম হাসানকে ডিভোর্স দিয়ে তার সাবেক স্বামী লাবিবকে বিয়ে করেন বলে জানা যায়।

অর্থাৎ, আলম হাসানের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার পর আরনিয়া আবারও লাবিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ান।

লাবিবকে বিয়ের পর হোটেলে থাকার ব্যবস্থা: লাবিবকে বিয়ে করার পর আলম হাসানের সাবেক স্ত্রী মুক্তা তাদের সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়। মুক্তা তাদের জন্য একটি ভিআইপি হোটেলে রুম বুক করে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আরনিয়া ও লাবিব ওই হোটেলে এক রাত অবস্থান করেন।

এদিকে স্ত্রী আরনিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় আলম হাসান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিভিন্ন ভিডিও ও বক্তব্যে তাকে এ ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

এ সময় আলম হাসান অভিযোগ করেন, আরনিয়া বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

কেন আলম হাসানকে থাপ্পড় দিলেন মুক্তা? গোপন সূত্রে আরনিয়া, লাবিব ও মুক্তার অবস্থান সম্পর্কে খবর পান আলম হাসান। পরে তাদের সামনে পেয়ে যাওয়ার ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সূত্রপাত করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তা, লাবিব ও আরনিয়া একটি রিকশায় করে আসছেন। এ সময় আলম হাসান তাদের সামনে গিয়ে হাজির হন।

এরপর সেখানে শুরু হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আলম হাসান আরনিয়ার হাত ধরে তাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে মুক্তাও আরনিয়াকে নিজের দিকে টানতে থাকেন।

একপর্যায়ে আলম হাসান ও মুক্তার মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে আলম হাসানকে মুক্তার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তিনি কেন তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন। আলম হাসান বারবার জানতে চান, কেন তার স্ত্রীকে নিয়ে আসা হয়েছে।

জবাবে মুক্তা বলেন, ‘কিসের তোর বউ?’

এ সময় যখন আলম হাসান আরনিয়ার দিকে মনোযোগ দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মুক্তা হঠাৎ আলম হাসানের গালে সজোরে একটি থাপ্পড় দেন।

ঘটনাটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে থাপ্পড় খাওয়ার পর আলম হাসান মুক্তাকে পাল্টা আঘাত করেননি। বরং তিনি আরনিয়াকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

আরনিয়ার সঙ্গে সংসার করুক—এটা কি চাননি মুক্তা? ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়, মুক্তা কেন আরনিয়াকে আলম হাসানের কাছ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন।

জানা যায়, মুক্তা চাননি আরনিয়া আলম হাসানের সঙ্গে সংসার করুক। তবে আরনিয়াকে সরিয়ে দিয়ে মুক্তা নিজে পুনরায় আলম হাসানের কাছে যেতে চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

অর্থাৎ, মুক্তার উদ্দেশ্য কী ছিল—এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

আলম-আরনিয়ার বিয়ে নিয়ে মুক্তা কেন কান্না করেছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুক্তাকে আলম হাসান ও আরনিয়ার বিয়ে নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

মুক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলম হাসান যখন আরনিয়াকে বিয়ে করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছিলেন। ওই সময় তিনি ফোনে আলম হাসানের সঙ্গে কান্নাকাটি করেন এবং আলম হাসানও তার সঙ্গে কান্নাকাটি করেন বলে মুক্তা জানান।

মুক্তা বলেন, তিনি তখন আলম হাসানকে বলেছিলেন, আরনিয়াকে যদি তার ভালো না লাগে তাহলে যেন তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেন। কিন্তু আলম হাসান তা করেননি।

তবে মুক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলম হাসান যদি আরনিয়াকে নিয়ে সুখে থাকেন, তাহলে তিনি তাদের সংসার ভাঙতে চাননি।

মুক্তা বলেন, তিনি আলম হাসানের সঙ্গে সংসার করেছেন। সে কারণে আলম হাসানের নতুন বিয়ের বিষয়টি তাকে কষ্ট দিয়েছিল। সেই কষ্ট থেকেই তিনি কান্না করেছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো চাননি আলম হাসান ও আরনিয়ার সংসার ভেঙে যাক।

আরনিয়া ও লাবিবকে ২৫ হাজার টাকা সহযোগিতার দাবি: আরনিয়া ও লাবিবকে নিজের বাসায় জায়গা দেওয়া এবং তাদের সহযোগিতা করার বিষয়েও মুক্তা কথা বলেছেন।

মুক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, আরনিয়া ও লাবিব তার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাদের সহযোগিতা করতে তিনি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করেন।

মুক্তা আরও বলেন, আরনিয়া ও লাবিবের জায়গায় অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলেও এবং একইভাবে সাহায্য চাইলে তিনি সহযোগিতা করতেন। অর্থাৎ, তাদের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাহায্যের প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে জানান।

ভাইরাল ইমু কথোপকথনে নতুন তথ্য: এরই মধ্যে আরনিয়া, মুক্তা ও লাবিবকে নিয়ে কয়েকটি ইমু গ্রুপের কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এসব কথোপকথনের মধ্যে কয়েকটিতে আরনিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে আলম হাসান ও লাবিবকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়।

একটি কথোপকথনে আরনিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, আলম তাকে বিয়ে করেছেন মুক্তাকে বোঝানোর জন্য এবং তিনিও আলমকে বিয়ে করেছেন লাবিবকে বোঝানোর জন্য।

এছাড়া লাবিবকে উদ্দেশ করেও আরনিয়া সেখানে বলেন, ‘আলম হচ্ছে মুক্তার সম্পত্তি, আর তুই আমার।’

এসব কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কথোপকথনগুলো আরনিয়া আলম হাসানের কাছ থেকে চলে যাওয়ার আগের সময়ের।

তবে স্ক্রিনশটগুলো যে সময়ের এবং কথোপকথনের পুরো প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘ছোট মানুষ, ভুল করেছে’—আরনিয়াকে ক্ষমা করলেন আলম হাসান: ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে, আলম হাসান আবার আরনিয়াকে বিয়ে করেছেন। এই পুনরায় বিয়ের বিষয়টি আলম হাসানের সাবেক স্ত্রী মুক্তাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

আরনিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পর কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না আলম হাসান। তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে তখন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

দুদিন আগে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে আলম হাসান জানান, তার স্ত্রী আরনিয়া ছোট মানুষ। তিনি বুঝে হোক কিংবা না বুঝে হোক, একটি ভুল করেছেন।

আলম হাসান বলেন, স্বামী হিসেবে তিনি তার স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যদেরও তার স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তার বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের আলোচনা শুরু হয়। কারণ, এর আগে আরনিয়ার বাড়ি ছেড়ে যাওয়া, আলম হাসানকে ডিভোর্স দেওয়া, লাবিবকে বিয়ে করা, হোটেলে অবস্থান এবং পরে আলম হাসানের কাছে ফিরে আসার বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।

বর্তমানে তার সাবেক চার স্ত্রী কে কি করছেন? আলম হাসান একের পর এক বিয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন। জানা যায়, তিনি পাঁচটি বিয়ে করেছেন।

তার সাবেক স্ত্রীদের মধ্যে মুক্তা ও শর্মিলাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। তারা আলম হাসানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে থাকেন।

অন্যদিকে তার বাকি দুই সাবেক স্ত্রীকে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমন দেখা যায় না। তারা নতুন করে বিয়ে করে সংসার করছেন বলে ধারণা করা হলেও তাদের বর্তমান জীবন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

আলম-আরনিয়ার সংসার এখন কোন পথে? সবশেষে আলম হাসানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি আরনিয়াকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদের সম্পর্ক ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একদিকে আরনিয়ার বাড়ি ছেড়ে যাওয়া, আলম হাসানকে ডিভোর্স দেওয়া ও লাবিবকে বিয়ে করার ঘটনা; অন্যদিকে আলম হাসানের তাকে ফিরিয়ে আনা এবং পরে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা—সব মিলিয়ে পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে মুক্তার হাতে আলম হাসানের থাপ্পড় খাওয়ার ভিডিওটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ইমু কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করেছে।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলম হাসান ও আরনিয়া আবার সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের সম্পর্ক কোন অবস্থায় রয়েছে। আলম হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও, কথোপকথন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব ঘটনা সামনে এসেছে। কোনো বক্তব্য বা স্ক্রিনশটের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন