জাতীয়

জাতীয় :3

রাজনীতি

রাজনীতি :3

রাজধানী

রাজধানী :3

সারাবাংলা

সারাবাংলা :6

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক :3

অপরাধ

অপরাধ :3

প্রবাস

প্রবাস :3

প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্ক, বিয়েতে অস্বীকৃতির পর জনতার হাতে আটক

মোঃ সোহাগ বকাউল প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেল থেকে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেল থেকে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটক নারী রুপালী খাতুন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া নলবিলপাড়া গ্রামে। তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহ মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন মাদ্রাসাশিক্ষক।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে রুপালী খাতুনের সঙ্গে হাবিবুল্লাহর যোগাযোগ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।

আটক দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এই সময়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন। তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের একপর্যায়ে রুপালী খাতুন বিয়ের জন্য হাবিবুল্লাহকে চাপ দিতে থাকেন বলে জানা গেছে। সম্পর্ককে পরিণতি দেওয়ার জন্য তিনি বিয়ের কথা বলেন। তবে বিয়ের বিষয়ে হাবিবুল্লাহ রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাবিবুল্লাহ ও রুপালী খাতুন দুই প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসে মিলিত হন। পরে তাঁরা কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেলে অবস্থান নেন। সেখানে খাবার গ্রহণের সময় তাঁদের মধ্যে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

রুপালী খাতুন তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর দ্রুত বিয়ে করার কথা বলেন। কিন্তু হাবিবুল্লাহ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা গেছে। বিয়েতে তাঁর এই অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

হোটেলে তাঁদের আচরণ, কথাবার্তা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি উপস্থিত লোকজনের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং দুজনকে ঘিরে ফেলেন।

স্থানীয় জনতার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। একই সঙ্গে রুপালী খাতুনের স্বামী প্রবাসে থাকার বিষয়টিও জানা যায়। তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক চলার বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় লোকজন দুজনকেই হোটেলের ভেতরে আটকে রাখেন। তবে পরিস্থিতি যেন কোনো অপ্রীতিকর দিকে না যায়, সে জন্য স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহ ও রুপালী খাতুনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর মহেশপুর, কালীগঞ্জ এবং মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে রুপালী খাতুনের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং পরে বিয়েতে অস্বীকৃতির বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ দুই বছর ধরে সম্পর্ক থাকার পরও বিয়েতে অস্বীকৃতির বিষয়টি থেকেই মূলত দুজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর কালীগঞ্জের খাবারের হোটেলে তাঁদের কথাকাটাকাটি এবং স্থানীয়দের হাতে আটকের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর বর্তমানে হাবিবুল্লাহ ও রুপালী খাতুন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বিয়ের বিষয়ে বিরোধ এবং কালীগঞ্জের খাবারের হোটেল থেকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো আলোচনা চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রবাসে থাকা স্বামীর স্ত্রী ও একজন মাদ্রাসাশিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি সম্পর্কের পর বিয়েতে অস্বীকৃতির ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিজ্ঞাপন