জাতীয়

জাতীয় :3

রাজনীতি

রাজনীতি :3

রাজধানী

রাজধানী :3

সারাবাংলা

সারাবাংলা :6

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক :3

অপরাধ

অপরাধ :3

প্রবাস

প্রবাস :3

তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি :3

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে এমপির ঝটিকা অভিযান, আটক ৩

চাঁদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে এমপির ঝটিকা অভিযান, আটক ৩

চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। অভিযানের সময় দালালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার-ফরিদগঞ্জ রোড এলাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেবাপ্রার্থীরা পাসপোর্ট করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি।

অভিযানের সময় অফিসের সামনের এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দালাল ছাড়া সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ করে আসছেন সেবাপ্রার্থীদের একটি অংশ। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের সামনে থাকা কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারীদের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদনসহ বিভিন্ন কাজ সহজে সম্পন্ন হলেও সরাসরি সরকারি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় অনেকের মধ্যে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ‘টাকা ছাড়া পাসপোর্টের কাজ হয় না’ কিংবা দালালের সহযোগিতা ছাড়া বিভিন্ন ধাপে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযানের সময় সংসদ সদস্যের কাছে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী তাদের ভোগান্তি ও অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, “পাসপোর্ট অফিসে এসে যা দেখলাম, আসলেই এখানকার পরিবেশ ভালো না।”

তিনি সাংবাদিকদেরও মাঝেমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে এসে সেবার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানান। চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধান হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

অভিযানের সময় চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের প্রধান হিসাবরক্ষক উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিও সামনে আসে। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এ সময় তাকে সতর্কও করেন তিনি।

তবে উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের ফলাফল কী—তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অফিসের সেবাব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

নিয়মিত তদারকির দাবি

পাসপোর্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। এই সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে যদি দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তাই শুধু ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করাই যথেষ্ট নয়—দালালচক্রের সঙ্গে কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, কীভাবে তারা অফিসের আশপাশে সক্রিয় রয়েছে এবং সেবাপ্রক্রিয়ার কোথায় অনিয়ম বা দুর্বলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত সরকারি ফিতে পাসপোর্ট সেবা নিতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং তদন্তে প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকও চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও দালালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কতটা কমে, সেদিকেই নজর থাকবে।

বিজ্ঞাপন