সারাবাংলা

পোস্ট লোড হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

পোস্ট লোড হচ্ছে...

রাজনীতিতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

প্রতিবেদক মোঃ সোহাগ বকাউল প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কেবল ভৌত অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকে সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনো দেশের অর্জিত উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে কতটা টিকবে, তা নির্ভর করে সে দেশের রাজনৈতিক পরিচালনা পর্ষদ এবং নেতৃত্বের গুণগত মানের ওপর। সম্প্রতি সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান জাতীয় রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে যত উন্নয়নই করা হোক না কেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখা বা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হবে।

উন্নয়নের ধারণা ও যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব বর্তমান প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন বলতে আমরা অনেকেই বৃহৎ সব ভৌত অবকাঠামো, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা শিল্পায়নকে বুঝে থাকি। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলো উন্নয়নের বাহ্যিক রূপ; এর প্রাণপ্রবাহ হলো সুশাসন ও যোগ্য নেতৃত্ব। মন্ত্রী অত্যন্ত যথার্থই একটি বাস্তবিক উপমা ব্যবহার করে উল্লেখ করেছেন—ভালো উপাদান হাতের কাছে থাকলেই যেমন স্বাদু খাবার তৈরি হয় না, তার জন্য একজন দক্ষ বাবুর্চির প্রয়োজন হয়; তেমনি সম্পদ বা অবকাঠামো থাকলেও সুযোগ্য দক্ষ রাজনীতিবিদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো ব্যতিরেকে কোনো দ্বিতীয় বিকল্প নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও অনাস্থার কারণ আমাদের দেশে বিগত দেড় থেকে দুই দশকে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি গভীর শূন্যতা ও সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো—মেধাবী, প্রতিশ্রুতিশীল ও নীতিবান তরুণদের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজনীতিতে সুস্থ চর্চা ও সহনশীল পরিবেশের অভাবের ফলে এই বিমুখতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সমাজের সর্বস্তরে: ১. রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব ঘটে চলেছে। ২. রাজনীতির মূলধারা থেকে মেধা ও দূরদর্শিতা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। ৩. এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানরাও এই পেশায় আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী জায়গায় মেধার চর্চা ব্যাহত হবে এবং একটি দেশপ্রেমিক ও সুদূরপ্রসারী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়া থমকে যাবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক অবদান বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশের বড় বড় পরিবর্তন ও আন্দোলনে এ অঞ্চলের মেধা ও যোগ্য নেতৃত্বই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের কথা স্মরণ করলে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো কালজয়ী রাজনীতিকের নাম উঠে আসে, যিনি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলাসহ পুরো উপমহাদেশে কৃষক-শ্রমিক তথা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও এই অঞ্চল থেকে বহু দূরদর্শী রাজনীতিবিদ উঠে এসে জাতীয় রাজনীতি সমৃদ্ধ করেছেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বরিশালকে সত্যিকারের একটি ‘স্বপ্নের শহর’ এবং দেশের সমৃদ্ধ অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আবারো সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।

তরুণদের প্রতি আহ্বান ও নতুন দিগন্ত আজকের তরুণদের চিন্তা-চেতনার গণ্ডি অনেক সময় কেবল ডাক্তার, প্রকৌশলী, কর্পোরেট চাকরি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিদেশে পাড়ি জমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। নিঃসন্দেহে পেশাগত উন্নতি রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন, তবে দেশের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সমাজ ও রাজনীতির মূলস্রোতে মেধাবীদের আগমন ঘটা আরও বেশি জরুরি। দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ যদি দেশ পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে সুস্থ রাজনীতিতে যুক্ত হয়, তবেই এটি হতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন সূচনা।

উপসংহার অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সাময়িক বিষয় হতে পারে, কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, সংরক্ষণ এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তরুণরা যাতে কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়া ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে পারে, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর দায়িত্বশীলদেরই সেই পথ প্রশস্ত করে দিতে হবে। মেধা ও সততার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক পরিবেশই একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।


বিজ্ঞাপন