
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একাধিক তথ্য সামনে এলেও তার শেষ যাত্রাপথ ঘিরে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে তাজমিনের বাসার গেট বন্ধ থাকার বিষয়ে দারোয়ান বাছিরের বক্তব্য, রাজুর দেওয়া বর্ণনা, সিএনজি চালকের সঙ্গে তাজমিনের কথোপকথন এবং কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পর দীর্ঘ সময় তার অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তে আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর-মানুমুড়া এলাকার একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালক মো. সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়। সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে ঘটনার আগের কয়েক ঘণ্টার গতিপথ এবং তাজমিনের সঙ্গে কারা যোগাযোগে ছিলেন, তা ঘিরে তদন্তে নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে।
কক্সবাজারে রাজুর সঙ্গে এক রাত
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও হোটেলকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমিনকে নিয়ে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম দেওয়া হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স লেখা হয় ১৮ বছর। তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল।
হোটেল রেজিস্টারে রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা উপজেলার মনির আহমেদের ছেলে হিসেবে। সেখানে তার দুটি মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরও লেখা ছিল। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দুজনকে একসঙ্গে বের হতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছাড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাজমিনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
পরিবারের সঙ্গে তাজমিনের যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করে রাজু তাকে কুমিল্লায় ফেরার জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের টিকিট করে দেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন বাসে ওঠেন।
এখানেই তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের হিসাব সামনে আসে। রাজুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের কুমিল্লায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু তাকে রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে দেখা যায়। অর্থাৎ বাসে ওঠার পর কুমিল্লায় নামা পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে তার বাসায় ফেরার সময়ের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। দুপুরে বাসে ওঠার পর সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছানোর কথা থাকলে, গভীর রাতে পদুয়ারবাজার থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগ পর্যন্ত তাজমিন কোথায় ছিলেন—এই সময়ের হিসাবও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাসার গেট নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য
রাজুর বক্তব্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন বাসার সামনে গিয়ে প্রধান গেট বন্ধ দেখতে পান। তিনি বাবাকে ফোন করেও সাড়া পাননি বলে রাজুকে জানান। পরে রাজুর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাকে একটি সিএনজিতে দেখা যায়।
রাজুর ভাষ্য, তিনি তাজমিনকে সিএনজি থেকে নেমে বাসার সামনে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু তাজমিন পরে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন এবং জানান, তিনি এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটাবেন।
আরেক পর্যায়ে তাজমিন তাকে জানান, তিনি এক ‘আঙ্কেলের’ বাসায় যাচ্ছেন। রাজুর দাবি, এটাই ছিল তাদের শেষ দিকের যোগাযোগ।
কিন্তু বাসার দারোয়ান বাছিরের বক্তব্যে এই অংশটি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাছির জানান, তিনি বাসার গেটের পাশেই থাকেন এবং সেখানে একটি জানালাও রয়েছে। রাত ১টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাজমিনের মা-বাবার কাছে গেটের চাবি ছিল। চাবি না পেলেও বাইরে থেকে ডাক দিলে পরিবারের সদস্যরা শুনতে পারতেন বলে জানান তিনি। তার দাবি, তাজমিন ওই সময় বাসার সামনে এলে গাড়ির শব্দও তার কানে আসত।
দারোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, আট বছর ধরে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ওই পরিবার সম্পর্কে তার কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি। তাজমিন সেদিন রাতে বাসার সামনে এসেছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘটনার তদন্তে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করে নিয়ে গেছে বলে জানান বাছির।
সিএনজির ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল?
তাজমিনের শেষ যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিএনজিতে থাকা অবস্থায় রাজুর সঙ্গে তার কথোপকথন।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় ফেরার পর তাজমিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। এ সময় সিএনজিচালক নাকি তাজমিনকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কার সঙ্গে কথা বলছ?”
রাজু তখন তাজমিনের কাছে জানতে চান, কে কথা বলেছে। তাজমিন জানান, সিএনজিওয়ালা কথা বলেছে। এরপর রাজু তাকে সিএনজি থেকে নেমে বাসার সামনে যেতে বলেন। কিন্তু তাজমিন ফোন কেটে দেন এবং পরে রাজুকে জানান, চিন্তা না করতে; তিনি এক বন্ধুর বাবার কাছে যাচ্ছেন, সেখান থেকে সকালে বাসায় ফিরবেন।
এই বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাওয়ার মতো। কারণ, একজন চালক তার যাত্রীর ফোনালাপ সম্পর্কে কেন জানতে চাইবেন —এ প্রশ্নের উত্তর ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আসলেই কি তাজমিনের সাথে তখন চালক কথা বলেছিল নাকি কোনো কারণে নিজের অবস্থান বা সঙ্গে থাকা ব্যক্তির পরিচয় আড়াল করতেই এ কথা বলেছিল রাজুকে —সেটিও তদন্তের বিষয়।
রাজুর বক্তব্যের আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, তাজমিন পরে তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি এক বন্ধুর বাবার কাছে যাচ্ছেন এবং ওই ব্যক্তি তাকে নিতে আসবেন। কিন্তু সেই বান্ধবী বা তার বাবার সঙ্গে তাজমিনের তখন যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তারা সত্যিই তাকে নিতে আসছিলেন কি না—এ ধরনের তথ্য এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি।
তাহলে তাজমিন কোথায় যাচ্ছিলেন?
রাজুকে তাজমিন একবার বলেছেন বাসার গেট বন্ধ, পরে বলেছেন বান্ধবীর বাসায় থাকবেন, তাজমিন কি সত্যিই পরিচিত কারও বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন? নাকি নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে রাজুর কাছে নিজের প্রকৃত অবস্থান গোপন করেছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে তার শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিপথ অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। তাজমিনের অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, কিংবা তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না—এমন কোনো তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। তবে তার ফোনের কললিস্ট, মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন, লাইভ লোকেশন এবং আশপাশের সিসিটিভি বিশ্লেষণ করলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুমনের সিএনজি ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে তাজমিনকে সিএনজিতে তোলেন চালক সুমন। তাকে রেসকোর্সে নেওয়ার পরিবর্তে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাজমিনকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর সুমন তার সিএনজি ঘটনাস্থলে রেখে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হওয়া স্বাভাবিক। যদি তিনি একাই পরিকল্পনা করে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকেন, তাহলে নিজের ব্যবহৃত যানটি সেখানে রেখে যাওয়ার কারণ কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অবশ্য শুধু সিএনজি ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি দিয়ে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ধরে নেওয়া যায় না। সুমনের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, মোবাইল ফোনের অবস্থান, কললিস্ট, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং সিসিটিভি ফুটেজ—সবকিছু মিলিয়েই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
রাজুকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল?
তাজমিনের মোবাইলের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজারে তার অবস্থান এবং রাজুর সঙ্গে একাধিক যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর কুমিল্লা ডিবি রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
১১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঠানো অধিযাচনপত্রে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পূর্বপরিচয়, সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ, ডিজিটাল কথোপকথন এবং মামলার বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
কুমিল্লা ডিবি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, হোটেল-সংক্রান্ত কিছু বিষয়সহ কয়েকটি বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
তাজমিন হত্যার ঘটনায় কারাগারে থাকা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা আবেদনে আইনজীবী অভিযোগ করেন, রাজু ভালোবাসার প্রলোভন দেখিয়ে তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। তাজমিনের বয়সসংক্রান্ত বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন তিনি। আইনজীবী জানান, ঘটনাটি তাঁকে ব্যথিত করেছে এবং বিবেকের তাড়না থেকেই তিনি মামলাটি করেছেন।
শেষ কয়েক ঘণ্টার হিসাবই এখন বড় প্রশ্ন
১. দুপুরে আইকনিক এক্সপ্রেসে ওঠার পর সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে পদুয়ারবাজারে দেখা গেল কেন—এই সময়ের মধ্যে তিনি কোথায় ছিলেন?
২. বাসার গেট নিয়ে রাজুর বক্তব্যের সঙ্গে দারোয়ান বাছিরের বক্তব্যের পার্থক্যের কারণ কী?
৩. সিএনজিতে থাকা অবস্থায় চালক কেন জানতে চেয়েছিলেন, তাজমিন কার সঙ্গে কথা বলছেন?
৪. যে বান্ধবী বা তার বাবার কথা বলা হয়েছে, তাদের সঙ্গে তাজমিনের শেষ সময়ে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
৫. তাজমিন কেন তার নিজের মাকে সৎ মা পরিচয় দিয়েছির রাজুর কাছে?
৬. সুমন কেন সিএনজি ঘটনাস্থলে রেখে চলে গিয়েছিলেন?
৭. আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তাজমিনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তার মোবাইল ফোনের যোগাযোগ, অবস্থান, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য কী বলছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সুমনের স্বীকারোক্তিই পুরো ঘটনার শেষ কথা কি না, নাকি তার শেষ যাত্রাপথে আরও কোনো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখনো তদন্তের আড়ালে রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, কললিস্ট, ডিজিটাল তথ্য, সিসিটিভি, হোটেল নথি, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পর ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তাজমিনের কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা ফেরার পর গভীর রাত পর্যন্ত সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব এবং তার শেষ যোগাযোগগুলো নির্ভুলভাবে মিলিয়ে দেখা।