জাতীয়

জাতীয় :3

রাজনীতি

রাজনীতি :3

রাজধানী

রাজধানী :3

সারাবাংলা

সারাবাংলা :6

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক :3

অপরাধ

অপরাধ :3

প্রবাস

প্রবাস :3

তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি :3

সৌদি ও আমিরাতে পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে যাচ্ছে ঢাকার বিশেষ টিম



অনলাইন ডেস্ক:
প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কনস্যুলার সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নানামুখী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ সংক্রান্ত সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

ই-পাসপোর্ট সেবায় আধুনিকায়ন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেগুলোতে প্রবাসীরা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং ঘরে বসেই আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দূতাবাসগুলো মূলত পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করে থাকে। মূল পাসপোর্টটি ঢাকা থেকে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যু করা হয়। তাই প্রবাসীদের দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। পাসপোর্ট বিতরণ বা ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস (SMS) বা ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা সম্প্রসারণ

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা চালুর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্ড প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে।

পাসপোর্টের মতোই এনআইডি সংক্রান্ত আবেদন বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতে গ্রহণ করা হলেও, তা যাচাই-বাছাই ও ইস্যু করার মূল দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। প্রবাসীদের সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ করতে মোট ৪১টি দেশে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সৌদি ও আমিরাতে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’

যেসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী অবস্থান করছেন, বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাসপোর্ট সংক্রান্ত নানা জটিলতা দূর করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা নিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই দুটি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষ দল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাঠানো হবে। তারা সরাসরি সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সকল পেন্ডিং সমস্যার সমাধান করবেন।

অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার সুফল

কনস্যুলার সংক্রান্ত সেবা প্রবাসীদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে অনলাইন সত্যায়ন ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ (e-Apostille) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই অনলাইনে বিভিন্ন কাগজের সত্যায়নের আবেদন করতে পারছেন এবং ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে সেবাগ্রহীতাদের সময় ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও অনলাইন ব্যবস্থা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা আন্তঃদাপ্তরিক জটিলতা কমাবে।

এছাড়া, প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে সেবাগ্রহীতাদের মতামত ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ (Grievance Redress System) সক্রিয় রয়েছে। প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, ত্বরান্বিত প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ এবং সেবাগ্রহীতাদের নানা প্রশ্নের সঠিক ও দ্রুত উত্তর প্রদানের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন